ভোলা সোমবার
১৩ জুলাই ২০২৬
৩০ এপ্রিল ২০২৬

ভোলায় ৯০ বছরের বৃদ্ধ প্রফেসরের সংবাদ সম্মেলন : সন্তানের মিথ্যা মামলা ও নির্যাতন থেকে বাঁচার আকুতি


নিজস্ব প্রতিবেদক
6

প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২৬ | ০৬:০৭:০১ পিএম
ভোলায় ৯০ বছরের বৃদ্ধ প্রফেসরের সংবাদ সম্মেলন : সন্তানের মিথ্যা মামলা ও নির্যাতন থেকে বাঁচার আকুতি ভোলায় ৯০ বছরের বৃদ্ধ প্রফেসরের সংবাদ সম্মেলন



ভোলাদর্পণ প্রতিবেদক : ভোলার সন্তান, অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান (৯০) ও তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা নিজেরই কন্যা জুলিয়া রহমান বন্যার চরম অত্যাচার, ভূমি দখল এবং একের পর এক মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন। শেষ বয়সে এসে নিজের ঘরবাড়ি হারিয়ে এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে শুক্রবার (১০ জুলাই) ভোলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণমাধ্যম ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এই বৃদ্ধ শিক্ষক। বর্তমানে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে ঢাকায় অবস্থানরত এই প্রবীণ শিক্ষক অশ্রুসজল চোখে তাঁর ওপর ঘটে যাওয়া দীর্ঘদিনের নির্যাতনের লোমহর্ষক বিবরণ তুলে ধরেন।

ভুক্তভোগী প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ২০১১ সালের ১৬ জুন তাঁর কন্যা জুলিয়া রহমান বন্যা এবং তাঁর ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে নির্মমভাবে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে। শুধু তাই নয়, নিজ বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে তাঁদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁরা ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, যার প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ও চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র বিদ্যমান রয়েছে। এই ঘটনার পর দুই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ এলাকার প্রায় ১০০ জন গণ্যমান্য ব্যক্তির স্বাক্ষরসহ ২০১১ সালের ২০ জুন ভোলা জেলা পুলিশ সুপার বরাবর আইনী প্রতিকার চেয়ে একটি আবেদনও করা হয়েছিল।

প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যে জমিতে এব ঘরে বন্যা বর্তমানে বসবাস করছে, সেটির কোনো বৈধ কাগজপত্র বা দলিল তার কাছে নেই। আমি ইতিমধ্যে উক্ত জমি ও ঘর আমার অন্যান্য সন্তান ও স্ত্রীকে হেবা দলিল মূলে হস্তান্তর করেছি। অথচ বন্যা স¤পূর্ণ অবৈধভাবে সন্ত্রাসীদের আশ্রয়ে সেই বাড়ি দখল করে রেখেছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্যা তাঁর ভাই, সন্তান, ভাতিজা এবং পরিবারের বৃদ্ধ নারীদের নামে একের পর এক সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে মানসিক ও সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছে। ভোলা থেকে বিতাড়িত হয়ে নিরুপায় বৃদ্ধ শিক্ষক বর্তমানে ঢাকায় তাঁর চাকরিজীবী সন্তানদের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু সেখানেও তাঁর পিছু ছাড়েনি বন্যা। গত ২০ দিন পূর্বে বন্যা ও তার বহিরাগত সন্ত্রাসী বাহিনী ঢাকা থেকে এই ৯০ বছরের বৃদ্ধকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ও হামলা চালায়। পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিলে গেন্ডারিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তখন গেন্ডারিয়া থানা পুলিশের কাছে প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান স্বেচ্ছায় এবং সজ্ঞানে নিজের সন্তানদের সাথে ভালো ও নিরাপদ আছেন বলে জবানবন্দি প্রদান করেন।সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে ৯০ বছর বয়সী এই অসুস্থ শিক্ষক অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমি এখন জীবন-মরণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। হাঁটতে-চলতে পারি না। শেষ বয়সে এসে আপনাদের (মিডিয়া) মাধ্যমে মহামান্য আদালত ও প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি-আমার পরিবার ও সন্তানদের নামে দেওয়া সমস্ত মিথ্যা মামলা যেন প্রত্যাহার করা হয়, আমি যেন আমার নিজ বাড়ি ফিরে পাই এবং এই অত্যাচারী কু-সন্তানের হাত থেকে মুক্তি পেয়ে শান্তিতে মরতে পারি। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারটি আইনিভাবে ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।এদিকে, দ্বিতীয় স্ত্রীর মেয়ে জুলিয়া রহমান বন্যা অভিযোগ করে বলেন, তার বাবা অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তার মা ও সন্তানদের কোনো খোঁজখবর নেননি। এখন হঠাৎ এসে তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করছেন।

তিনি আরও বলেন,আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখেননি। আমাদের খোঁজখবর নেননি, ভরণপোষণের দায়িত্বও পালন করেননি। অথচ এখন তিনি আমাদের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন অভিযোগ তুলছেন, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ আরও প্রকাশ্যে চলে এসেছে বলে জানা গেছে।


আরও পড়ুন: