ভোলার কাচিয়ার ময়ফুল কর্তৃক মঞ্জুর, ফজলুর,রফিক ও অলুউল্লাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ : পাল্টা অভিযোগ থানায়
নিজস্ব প্রতিবেদক
3
প্রকাশিত: ০৪ মে ২০২৬ | ১২:০৫:১৮ পিএম
ষ্টাফ রিপোর্টার : ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের সাহামাদার এলাকার ময়ফুল বেগম কর্তৃক মঞ্জুর আলম, ফজলুর রহমান, রফিকুল ইসলাম ও অলুউল্লাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানির করার অভিযোগ উঠেছে। জানাযায়, কাচিয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ময়ফুল বেগম স্বামী মৃত খোরশেদ আলম কর্তৃক উক্ত চারজনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ ভোলা সদর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর ৪৬৪/২৬ মামলা দায়ের করেন। এ ব্যাপারে মামলার আসামি রফিকুল ইসলাম জানান, তাকে হয়রানি করার জন্য এই মামলা দেয়া হয়েছে। অথচ সেদিন ৩০ মার্চ রোজ সোমবার সকাল ৮.৩০ মিনিটের সময় বাড়ি থেকে ভোলা সদর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করি হাসপাতালে ভর্তির টিকেট নাম্বার ১৬১৯৭/ ৫৩। চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন । আর্থিকভাবে সংকট থাকায় ৩/৪ দিন বাড়ীতে অপেক্ষা করে বরিশাল না গিয়ে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য যান। তিনি ঢাকা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা করেন যার সিরিয়াল নং ১০৬৬০১তারিখ ৫ এপ্রিল। তিনি বলেন ভাতিজা ফজলুর রহমান ময়ফুলকে গলা ধাক্কা দিয়ে রাস্তার উপরে ফেলে দিয়েছে কিন্তু আমি রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে ছিলাম না এবং ময়ফুলের বাড়ি থেকে আধা কিলো দূরে বসবাস করি। এমনকি ওই বাড়ি থেকে ২৬ বছর পূর্বে চলে আসি । তাদের বাড়িতে কোন সম্পদ নেই ও কোন জায়গা জমি নেই। রফিকুল ইসলাম আরো জানান, আমার ছোট ভাই ওলুউল্লা ঢাকায় থাকেন তিনি ভোলা থেকে প্রায় ২০ বছর পূর্বে চলে গেছে অথচ এই মামলায় তাকে ৪ নম্বর আসামী করা হয়েছে। আমি এঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি।। ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা লিটন হাওলাদার জানান, রফিকুল ইসলাম ও ওলুউল্লা এ ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন না এমনকি রফিক চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ছিলেন ও ওলুউল্লা দীর্ঘ ২০ বছর ঢাকায় বসবাস করে তারা দুই ভাই এই ঘটনার সাথে কোন অবস্থাতে জড়িত নাই। স্থানীয় বাবুল সরকার জানান, রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে ছিলেন না ও তার ভাই ওলুউল্লা দীর্ঘ বছর ঢাকা অবস্থান করছে এমনকি ঘটনার স্থলে ছিলেন না। ময়ফুলের বাড়ি থেকে রফিক মিয়ার বাড়ি ৩/৪শত ফুট দূরে ঘটনাটি ঘটেছিল রাস্তার পাশে একটি চায়ের দোকানের সামনে ওই ময়ফুল মামলা সাজাতে গিয়ে ঘটনাস্থল তার বাড়িকে দেখিয়েছেন । স্থানীয় বাসিন্দা নাহার দোকানদার (দোকানদার বাবুলের স্ত্রী) জানান, ময়ফুলের সাক্ষী জাহাঙ্গীর আলম তিনি ওই ঘটনাস্থল থেকে ১ থেকে দেড় কিলো দূরে তার বাড়ি তিনি কি করে এই মামলার সাক্ষী হলেন। মঞ্জুর আলমের স্ত্রী রহিমা জানান, সকাল ৭:৩০ মিনিট সময় বাঁশ কাটা নিয়ে ময়ফুল ওরফে মনির সাথে কথার কাটাকাটি হয় এরপর ময়ফুল বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় আমি রহিমা বেগম, মঞ্জুর আলম ও ফজলুর রহমান সহ আমাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে বাবুলের চায়ের দোকানের সামনে যায় সেখানে গিয়ে ফজলুর রহমান সাথে কথার কাটাকাটি হয় একপর্যায়ে তারা দুইজনের মধ্যে ঝগড়া লাগতে থাকে এবং তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। ফজলুর রহমান ময়ফুলকে গলা ধাক্কা দিয়ে রাস্তার উপরে ফেলে দিয়েছে এতে ঘটনাস্থলেই ময়ফুল বেগমের মাথা ফেটে গুরুতরভাবে জখম আহত হয়েছেন।ওই ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছিল। এঘটনার সাথে আমার স্বামী মঞ্জুর আলম কোন ভাবেই জরিত ছিল না। তিনি ঘটনার পূর্বেই সকাল ৬ টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে কাঠির মাথায় উদ্দেশ্য করে চলে গেছে । মামলার ১নং আসমী মঞ্জুর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান ময়ফুলের সাথে ফজলুর রহমানের সঙ্গে হাতাহাতি মারামারি হয়েছে এবং ময়ফুল বেগমের মাথা ফেটে গুরুতরভাবে জখম হয়ে আহত হয়েছেন আমি শুনেছি। ওই ঘটনার পূর্বেই সকাল ৬টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে কাঠির মাথা গিয়ে মাছ ব্যবসায়ী জুয়েলের ও মাছ ব্যবসায়ী শেখ ফরিদের মাছ নিয়ে ভোলার চরনোয়াবাদ চৌমুহনী বাজার চলে যাই । অথচ আমাকে মামলার ১নং আসমী করা হয়েছে। আমি এঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি। এব্যাপারে মাছ ব্যবসায়ী শেখ ফরিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ওই দিন ৩০মার্চ খুব সকালে মঞ্জুর আলম আমার (শেখ ফরিদ) ও জুয়েলের মাছ নিয়ে ভোলার চরনোয়াবাদ চৌমুহনী বাজারে গিয়েছিল অথচ মঞ্জুর এ মামলার আসামি বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়।এদিকে রফিকুল ইসলামের বড় মেয়ে শাহনাজ জানান, তিনি ইয়াছিন পিতা মৃত খোরশেদ আলম, ময়ফুল বিবি স্বামী মৃত খোরশেদ আলম, সাহমাদার ১নং ওয়ার্ড কাচিয়া ও জাহাঙ্গীর পিতা মৃত মোফাজ্জল সাং বাপ্তা ৪নং ওয়ার্ড বাপ্তা ভোলা সদর ভোলা। এদের বিরুদ্ধে ভোলা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি। অভিযোগে শাহনাজ উল্লেখ করেন ইয়াছিন, মায়ফুল বিবি, জাহাঙ্গীর এরা তিনজনে গত ২৪ এপ্রিল দুপুর আনুমানিক ১টার সময় রফিকুল ইসলামের মেয়ে শাহনাজের বাসায় এসে গালিগালাজ ও মারধর করিবার জন্য এগিয়ে আসলে স্থানীয় রিতা আক্তার স্বামী মৃত জাহাঙ্গীর হাওলাদার, লিটন হাওলাদার পিতা জয়নাল আবদীন হাওলাদার এরা এগিয়ে আসলে আসামিরা তাকে ও পিতাকে বিভিন্ন মামলা মোকদ্দমা দিয়ে বা খুনখারাবি করবে ও গুম করবে বলে হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বর্তমানে আমিও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি করছি। মামলার বাদী ময়ফুল বেগম স্বামী মৃত খোরশেদ আলম সাং কাচিয়া ১ নং ওয়ার্ড তার সাথে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, রফিকুল ইসলাম ওরফে রবি এই ঘটনার মূল হোতা তিনি ও তার ভাই অলুউল্লা আমাকে কয়েক দফা মারপিট করে আমার ঘরের সামনে টয়লেট বসিয়েছে এমনকি ইট পাটকেল মেরে আমাকে আহত করেছে। বিগত ২৫/৩০পূর্ব থেকে মঞ্জুর আলম, ফজলুর, রহমান, রফিক ইসলাম রবি, ওলুউল্লা এই গ্রুপটি আমাকে নানান ভাবে অত্যাচার নির্যাতন করে আসছে । ময়ফুল আরো জানান, গত ৩০ মার্চ সোমবার সকাল আনুমানিক ৮ ঘটিকার সময় ওই গ্রুপটি রাস্তায় উপরে মারপিট করে সেখান থেকে দৌড়ে বাড়িতে এসে ঘরে ঢুকলে ওই গ্রুপটি ঘরে প্রবেশ করে ও মনজুর আলম দা দিয়ে আমাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেছে সেখানে ৩টি সেলাই লাগে, ফজলুর রহমান লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করলে ডান হাত দিয়ে ঠেকাইলে ডান হাত মারক্ত রক্ত জমাট জখম হয়েছে। রফিকুল ইসলাম ওরফে রবি আমাকে নাকে ঘূষি দিয়া গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম করে।অলুউল্লা আমার পড়নের কাপড় চোপড় টানাটানি করে শ্লীলতাহানি করেছেএবং আমাকে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পাঠানোর লক্ষ্যে এঘটনা ঘটিয়েছে ।যার কারণে আমি কোর্টে মামলা দিয়েছি।থানার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন সেটি শুনেছি নিজেরা মামলা থেকে বাঁচার জন্য আমার বিরুদ্ধে একটি ডাহা মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে।
আরও পড়ুন:
জীবনযাপন সম্পর্কিত আরও
ভোলার কাচিয়ার ময়ফুল কর্তৃক মঞ্জুর, ফজলুর,রফিক ও অলুউল্লাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ : পাল্টা অভিযোগ থানায়
০৪ মে ২০২৬
ভোলার কাচিয়া সাহামাদার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক আমীর হোসেন বিদায়ী সংবর্ধনা
০২ মে ২০২৬
ভোলায় নিজাম-হাসিনা ফাউন্ডেশন হাসপাতাল পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান
০২ মে ২০২৬
ভোলায় ইএসডিও’র পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত
০৩ এপ্রিল ২০২৬
ভোলায় পুলিশের আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
১৬ মার্চ ২০২৬
ভোলায় আমরা ভোলাবাসীর উদ্যোগে ঐক্য ও সম্প্রীতির ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
১৫ মার্চ ২০২৬
