ভোলার ৪টি আসনে প্রচার প্রচারণার শেষ দিনে গণমিছিল এবং জনসভায় ব্যস্ত প্রর্থীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক
3
প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১১:০২:৫৮ পিএম
ভোলার ৪টি আসনে প্রচার প্রচারণার শেষ দিনে গণমিছিল এবং জনসভায় ব্যস্ত প্রর্থীরা
ভোলাদর্পণ প্রতিবেদক : ভোলা সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারী)সকাল ৭টায় শেষ হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার প্রচারণার সময়। তাই একদিকে বলা চলে আজই গণসংযোগের শেষ দিন। সোমবার সকাল থেকেই প্রচার প্রচারণায় মূখর ছিলো ভোলার সংসদীয় চারটি আসন। মাইকিং, লিফলেট বিতরন, ভোটারদের মোবাইলে প্রার্থীদের ভোট চেয়ে ফোন কল, জনসভা ও মিছিলসহ নানা ভাবে প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা।
শেষ মূহুর্তের প্রচারণায় সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারী) বিকালে ভোলা-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা নজরুল ইসলামের পক্ষে ভোলার কালীনাথ রায়ের হাটখোলা মসজিদের সামনে থেকে গণমিছিল বের করা হয়। এসময় নানা সাজে সুসজ্জিত হয়ে হাজার- হাজার নেতাকর্মীরা মিছিলে অংশ নেন।
একই আসনে সন্ধ্যায় বিএনপি মনোনিত জোট প্রার্থী আন্দালিব রহমান পার্থর গরুর গাড়ি মার্কায় ভোট চেয়ে মিছিল করেন তার সমর্থকরা। মিছিলটি বাংলাস্কুল মাঠ থেকে শুরু হয়ে পুরো শহর প্রদক্ষিণ করে আবার বাংলাস্কুল মাঠে এসে শেষ হয়। এতে হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেয়।
তবে ভোটাররা বলছেন, দীর্ঘদিন পর তারা সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট দিতে চায়। মারামারি হানাহানি আর চায়না। পরিবেশ সুষ্ঠু থাকলে তারা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিবেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকলে এবারও তারা ভোট কেন্দ্রে যাবেন না বলেও মন্তব্য করেন।
তারা বলছেন, বিগত দিনগুলোতেও প্রার্থীরা বিভিন্ন রকম উন্নয়ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু স্বাধীনতার বহু বছর পার হলেও ভোলাবাসীর ভাগ্যবদল হয়নি। তাই এবার তারা বুজে শুনে দক্ষ প্রার্থীকে ভোট দিবেন।
এদিকে জেলার ৪টি সংসদীয় আসনে পুরুষদের সভা সমাবেশের পাশাপাশি নারী ভোটারদেরও চলছে সভা-সমাবেশ ও উঠান বৈঠক। এসব সভা-সমাবেশে উপস্থিত হয়ে নারী ভোটারদের থেকে ভোট চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রীসহ স্বজনরা। জেলার প্রতিটি উপজেলায় নারী ভোটারদেরও সরব উপস্থিতি দেখা গেছে।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, জেলার সাত উপজেলার চারটি আসনে নারী, পুরুষ ও তৃতীয় লিঙ্গের মোট ১৬ লাখ ৭২ হাজার ৯৫৮ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে ভোলা সদর উপজেলায় ৪ লাখ ২ হাজার ৮৬৬, দৌলতখান ১ লাখ ৬৪ হাজার ৩৭২, বোরহানউদ্দিন ২ লাখ ২৬ হাজার ৯১১, লালমেহন ২ লাখ ৭২ হাজার ৭২২, তজুমদ্দিন ১ লাখ ৭ হাজার ৮৪৭, চরফ্যাশন ৪ লাখ ৩০ হাজার ৪৫৭, মনপুরা ৬৭ হাজার ৭৮২ জন ভোটার রয়েছে।
ভোলা-১ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের পক্ষে তার মা, স্ত্রী ও সন্তানদের নির্বাচনী প্রচারণা ও উঠান বৈঠক করতে দেখা গেছে। পার্থ ও তার স্ত্রী এবং মা আলাদা আলাদা সমাবেশ ও উঠান বৈঠকে অংশ গ্রহণ করে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে দিচ্ছেন নানা রকম প্রতিশ্রুতি। ভোলা-বরিশাল সেতু, নদী ভাঙন রোধ, ভোলার ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ, মডিকেল কলেজ স্থাপনসহ রাস্তাঘাট উন্নয়ন করবেন বলেও দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতি।
একই আসনে জামায়াতে ইসলামী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের ‘হাতপাখা’ প্রতীকের মো. ওবায়েদ বিন মোস্তফা গণসংযোগ, সভা-সমাবেশে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভোলার গ্যাসকে ব্যবহার করে ভোলায় শিল্পায়নসহ ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। শেষ মূহুর্তে তারাও নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন এবং ভোটারদের আস্তা অর্জনের চেষ্টা করছেন।
ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন) আসনে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী মারফুজা সুলতানা সভা-সমাবেশে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নদী ভাঙন রোধ, বেকারত্ব দুর করার পাশাপাশি বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান বাসীর জীবনমান উন্নয়ন করবেন বলে দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতি।
একই আসনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী ফজলুল করিমও দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতি। তিনি বোরহানউদ্দিন-দৌলতখানবাসীর জীবনমান উন্নয়নে ১১ দফা ইশতেহার ঘোষনা দিয়েছেন। ইশতেহারে ইনসাফ, উন্নয়ন ও মানবিক মর্যাদার ভোলা-২ গড়বেন বলে ঘোষনা দেন। তার পক্ষেও শেষ সময়ে চলছে জোড়ালো প্রচারণা।
ভোলা-৩ (তজুমদ্দিন-লালমোহন) আসনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মেজর অব হাফিজ উদ্দিন বীর বিক্রম নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শেষ সময়ে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। সভা-সমাবেশে তার স্ত্রী’রও সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। লালমোহন-তজুমদ্দিন বাসীর উন্নয়নে কাজ করবেন বলে তিনিও দিচ্ছেন নানা রকম প্রতিশ্রুতি।
একই আসনের জামায়াতের জোট প্রার্থী বিডিপির নিজামুল হক নাইম বিভিন্ন এলাকা লিফলেট বিতরণ, উঠান বৈঠকে ও গণমিছিলের মাধ্যমে শেষ মূহুর্তে প্রচারণা চালান।
এছাড়াও ভোলা-৪ আসনে (চরফ্যাশন-মনপুরা) বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নরুল ইসলাম নয়ন ব্যস্ত সময় পার করছেন। মনপুরা চরফ্যাশনবাসীর ভাগ্য বদলে দেওয়ার দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতি। পর্যটন খাতকে উন্নত করে আধুনিক শহর গড়ে তুলবেন বলেও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
একই আসনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী মোস্তফা কামাল ও ইসলামি আন্দোলনের ‘হাতপাখা’ প্রতীকের প্রার্থী আবুল মোকাররম মো. কামাল উদ্দিনও ভোটারদের একই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তাদের সভা-সমাবেশগুলোতেও দেখা গেছে নারী ভোটারদের সরব উপস্থিতি।
জেলার চারটি আসনেই সকল রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা অবহেলিত ভোলাবাসীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন ভোটারদের। তবে ভোটাররা বলছেন, বিগত দিনগুলোতেও এমন প্রতিশ্রুতি দিতে দেখেছেন তারা। কিন্তু বাস্তবে নির্বাচিত হওয়ার পর ভোলারবাসীর জীবনমান উন্নয়নে সেরকম ভুমিকা রাখেননি সেসব প্রার্থীরা। এবার তারা ভেবেচিন্তে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিবেন।
এদিকে ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে জেলায় ৭ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নৌ-বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র্যাব, পুলিশ সহ আনসার সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা নিরাপত্তায় থাকবেন।
ভোলা সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সভাপতি মোবাশ্বির উল্লাহ চৌধুরী বলেন, ভোলায় এমন প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে। যিনি হবে জনগণের। অবহেলিত ভোলার উন্নয়নে কাজ করবেন। বিশেষ করে ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রানের দাবী ভোলা-বরিশাল সেতু, মেডিকেল কলেজ স্থাপনসহ ভোলাবাসীর জীবনমান উন্নয়ন করবেন।
আরও পড়ুন:
জাতীয় সম্পর্কিত আরও
ভোলার ৪টি আসনে প্রচার প্রচারণার শেষ দিনে গণমিছিল এবং জনসভায় ব্যস্ত প্রর্থীরা
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভোলায় অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে তৎপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভোলায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শনে নৌবাহিনী প্রধান এম নাজমুল হাসান
০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভোলার ১৩১ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, নিরাপত্তায় থাকবে বিজিবি ও কোস্টগার্ড
০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভোলায় ইশারা ভাষা দিবস পালিত
০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভোলা সরকারি গণগ্রন্থাগারে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস উপলক্ষে প্রতিযোগিতায় আমেনা বেগম জুঁইয়ের দ্বৈত সাফল্য
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
