ভোলা শুক্রবার
০৮ মে ২০২৬
১৭ এপ্রিল ২০২৬

আজ সেই ভয়াল রাতঃ ২৫শে মার্চ


ডেস্ক রিপোর্ট
606

প্রকাশিত: ২৪ মার্চ ২০২৩ | ১১:০৩:৩০ পিএম
আজ সেই ভয়াল রাতঃ ২৫শে মার্চ ফাইল-ফটো



আজ ২৫শে মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিন শেষে বাঙালির জীবনে প্রবেশ করে সেই ভয়ঙ্কর রাত। মধ্যরাতে বর্বর হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাঙালির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে তাদের পূর্বপরিকল্পিত অপারেশন সার্চলাইট এর মাধ্যমে পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হামলা চালায়। 

২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র, নিরপরাধ ও ঘুমন্ত বাঙালিদের ঠাণ্ডা মাথায় গণহত্যা করে, যা বিশ্বের ইতিহাসে গণহত্যার অন্যতম জঘন্যতম ঘটনা। ২০১৭ সাল থেকে এই দিনটি বাংলাদেশে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

২৬ মার্চ ভোররাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। গ্রেফতারের আগে তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়ে যান।

দিনটা কেমন ছিল? ২৫শে মার্চ সকাল থেকেই ঢাকার পরিস্থিতি থমকে আছে। এ সময় মুজিব ও ইয়াহিয়ার মধ্যকার আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। ধানমন্ডির ৩২ এ স্বাধীনতাকামী বাঙালিরা নেতার নির্দেশের অপেক্ষায় বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের সামনে দাঁড়িয়ে। বঙ্গবন্ধু কয়েকবার ঘর থেকে বের হয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে জনতার উদ্দেশে ভাষণ দেন। দিনে বা রাতে কী হবে তা তখনও কেউ জানে না।

২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী মাঠে নামে। যেন রাজধানী ঢাকা জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। গণহত্যার মাধ্যমে বাংলার মানুষকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সশস্ত্র অভিযানের নাম দেয় ’অপারেশন সার্চলাইট’। দুই পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী এই অপারেশনের নির্দেশনা দেন। এই নির্দেশের কোন লিখিত রেকর্ড রাখা হয়নি।

 

কীভাবে পরিকল্পনা হয় এই অপারেশনের, সে বিষয়ে স্মৃতিচারণা করে খাদিম হোসেন রাজা লিখেছেন, ‘১৭ মার্চ, সকাল প্রায় ১০টা বাজে। টিক্কা খান আমাকে ও মেজর জেনারেল ফরমানকে কমান্ড হাউজে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে খবর পাঠান। গিয়ে দেখি, সেখানে জেনারেল আবদুল হামিদ খানও রয়েছেন। টিক্কা খান আমাদের বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শেখ মুজিবের সমঝোতা আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট চান আমরা যেন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করি এবং সে অনুযায়ী একটা পরিকল্পনা তৈরি করি।’ পরদিন সকালেই খাদিম হোসেন রাজা তার কার্যালয়ে রাও ফরমান আলীকে নিয়ে বসেন। তারাই গণহত্যার এ অভিযানের নাম দেন অপারেশন সার্চলাইট।

তাদের এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ সব সচেতন নাগরিককে নির্বিচারে হত্যা করা। এদিন দুপুরের পর থেকেই ঢাকাসহ সারা দেশে থমথমে অবস্থা বিরাজ করতে থাকে। সকাল থেকেই সেনা কর্মকর্তাদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। হেলিকপ্টারযোগে তারা দেশের বিভিন্ন সেনানিবাস পরিদর্শন করে বিকালের মধ্যে ঢাকা সেনানিবাসে ফিরে আসে।

প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান অপারেশন সার্চ লাইট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সব পদক্ষেপ চূড়ান্ত করে গোপনে ঢাকা ত্যাগ করে করাচি চলে যান। ২৫ মার্চের গণহত্যা শুধু এক রাতের হত্যাকাণ্ডই ছিল না, এটা ছিল মূলত বিশ্ব সভ্যতার জন্য এক কলঙ্কিত জঘন্যতম গণহত্যার সূচনা মাত্র।


আরও পড়ুন: